পোস্টগুলি

মরুর বাঘ

ছবি
আফগানিস্তানের বাদশাহ আমানুল্লাহ খানের সাথে 'মরুভুমির বাঘ' এবং 'মদিনার প্রতিরক্ষক' নামে প্রসিদ্ধ ফাখরুদ্দীন পাশা।   আপনি কি জানেন কালিমার পতাকা গায়ে জড়ানো এই ফাখরুদ্দীন পাশা কে? খিলাফাতের শেষ গভর্নর, মাদিনাতুল মুনাওয়ারার। The Defender of Medina নামে প্রসিদ্ধ। রাসূলের প্রিয় মদিনাকে ভালোবাসার কারণে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি পরাজিত হয়ে ছিলেন তবু ব্রিটিশদের হাতে মদিনাকে ছেড়ে দেন নি, আত্মসমর্পণ করেন নি। এই বিষয়ে আবু আব্দুল্লাহ ভাই একটা নোট লিখেছিলেন, "মাদীনার শেষ সিপাহসালার" নামে। বিস্তারিত জানতে পড়ে দেখতে পারেনঃ https://www.facebook.com/notes/abu-abdullah/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0/581200195373016/ আর ফাখরুদ্দিন পাশার সাথে দাঁড়ানো আফগানিস্তানের রাজা আমানুল্লাহ খান। তিনি এমন কেউ ছিলেন না ইতিহাস তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। বরং তার সাত পুরুষের কপাল ফাখরুদ্দিন পাশার সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, তার সাথে দাঁ...

করাচি থেকে ইস্তাম্বুল বা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব

ছবি
এই আলোকচিত্রটির পেছনে একটি সুন্দর পটভূমি রয়েছে। ১৮৯৭ সালে অটোমান-গ্রীক যুদ্ধে উসমানীয় সৈন্যবাহিনী বিজয় লাভ করলে শুভেচ্ছা জানাতে করাচি থেকে সম্ভ্রান্ত মুসলিম প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে আসেন। এটি তাদের ছবি। ১৮৯৭ সালে উসমানীয় খিলাফাতের সাথে কিংডম অব গ্রিসের মধ্যে সংগঠিত যুদ্ধটি 'গ্রেসো-টার্কিস ওয়ার' নামে পরিচিত। উসমানীয়দের শেষ যুগের খলীফাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের শাসনামলে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উসমানীয় পক্ষের কমান্ডারদের মধ্যে এজেম পাশা, আহমেদ হিফযি পাশা ও হাসান তাহসিন পাশা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর নৌ-যুদ্ধের অ্যাডমিরাল ছিলেন হাসান রামি পাশা (ন্যাভাল মিনিস্টার)। এই যুদ্ধে উসমানীয়দের সামরিক বিজয় ঘটলেও পরবর্তীতে কনস্টান্টিনোপল চুক্তির কারণে ইউরোপের সম্মিলিত শক্তির হস্তক্ষেপে (great powers of Europe) গ্রিস কূটনৈতিক বিজয় লাভ করে, ফলে উসমানীয় আয়ত্তাধীন ক্রিট উপদ্বীপ স্বায়ত্তশাসন পায়।

উসমানীয় খিলাফাতের পতন হোলো যেভাবে (সংক্ষিপ্ত)

ছবি
শেষ উসমানীয় খলীফা দ্বিতীয় আব্দুল মাজিদ দ্বিতীয় আব্দুল মাজিদ ১৯২২ থেকে ১৯২৪ পর্যন্ত খলীফা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন, আসলে তখন খলীফা পদটি প্রতীকী ধর্মী ছিল, আব্দুল মাজিদের হাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না। তিনি শুধুই খলীফা ছিলেন, সুলতান ছিলেন না। সুলতান পদটি ১৯২২ সালে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়, তখন সব ক্ষমতা গ্র্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলির হাতে ছিল। ১৯২৪ সালে খলীফা পদটিও বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় জালিম আতাতুর্কের শাসন, ইসলামে র নাম নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। শেষ স্বাধীন উসমানীয় সুলতান ছিলেন দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ। ১৯০৯ সালে ইউরোপ-প্রভাবিত কমিটি অব ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস ক্ষমতা দখল করে নিলে তাকে পদচ্যুত করে পঞ্চম মুহাম্মদকে বসানো হয়। তখন থেকে পাশারা দেশ চালাতো। কিন্তু পঞ্চম মুহাম্মদ কমিটির প্রভাব মুক্ত হয়ে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। এক হিসেবে তিনিও স্বাধীন ছিলেন, তিনি জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দেন, কমিটি অব ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস সরকারের পতন ঘটান। কিন্তু দুঃখজনক তিনি ১৯১৮ সালে মারা যান। এরপর ষষ্ঠ মুহাম্মদ মসনদে বসেন, ১৯১৮ থেকে ২২ পর্যন্ত তিনি সুলতান ছিলেন, এ সময়টা য...

গল্প-১

এক মধ্যরাতে গ্র্যান্ডপা (দাদু) আমায় ডেকে পাঠালেন। তখন তার অবস্থা সঙ্গিন। মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারান। বার বার বলছিলেন, আমার সময় বেশি নাই, আমার সময় বেশি নাই। আমি তার সামনে গেলে তার অস্থিরতা যেন উবে গেলো। তিনি ঘরের সকলকে বেরিয়ে যেতে বললেন। গম্ভীর হয়ে আমাকে বললেন, দাদুভাই বোসো। আমি দাদুর বিছানায় বসলাম। তিনি শুয়ে ছিলেন। আমার হাত ধরে বললেন, দাদুভাই, আমি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি। তোমাকে একটা দায়িত্ব দিয়ে যেতে চাই। আমি হয়ে বললাম, কি দায়িত্ব বলুন। দাদু বললেন, শান্ত হও বাছা। এই দায়িত্ব এমন কিছু যা কাঁধে নিলে কাধ ভেঙ্গে পড়তে পারে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য লাগবে মজবুত কাঁধ। আমি আগা মাথা কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। তিনি তখন বললেন, ভালো আর খারাপের দ্বন্দ চিরন্তন। যেদিকে মুসা থাকবে এর উল্টো দিকে থাকবে ফেরাউন, যেদিকে মুহাম্মদ থাকবে এর বিপরীত দিকে থাকবে আবু জেহেলরা। আমি মাথা নাড়লাম। তিনি বললেন, এইযে ভালো আর খারাপের দ্বন্দ, ইসলাম এবং জাহেলিয়াতের দ্বন্দ, এর মধ্য থেকে যে কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে হবে, মাঝখানের কোনো অবস্থান নাই। তিনি এইটুকু বলে খুব হাঁপাচ্ছিলেন। আমি বললাম, বাকিটা পরে শুনবো, আপনি বিশ্রা...

ইসলাম কি?

ছবি
ইসলাম এমন একটি দ্বীন, এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যার তুলনা অন্য কোনো মতবাদ, দর্শন বা ধর্মে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মতন অন্য কোনো জীবনদর্শন মানুষের প্রতিটি সমস্যার এতো যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে সক্ষম নয়। কারণ ইসলাম কোনো মানুষের তৈরি জীবন ব্যবস্থা নয়, ইসলাম হচ্ছে মহান স্রষ্টার দেয়া জীবন বিধান। মহান রব্বুল আলামিন যুগে যুগে নবী রসূল প্রেরণ করেছেন। এরুপ ভাবে শেষ নবী হিসেবে আমাদের জন্য প্রেরণ করেছেন মহামানব মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। আর মহান আল্লাহর বাণী পবিত্র কুরআন নাযিল করেন নবী মুহাম্মদের ওপর। এই কুরআন এবং নবী মুহাম্মদ হচ্ছে আমাদের জন্য বিশেষ উপহার, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারী প্রত্যেককে নবী মুহাম্মদকে অনুসরণ করা এবং কুরআনকে আল্লাহর কিতাব হিসেবে মেনে নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি ঈমান আনতে হবে, আর এটাই হচ্ছে ইসলাম। এই দ্বীন ইসলামকে যারা গ্রহণ করে নিবে তারাই হচ্ছে মুসলিম । ইসলাম একটি দ্বীন, একটি জীবন ব্যবস্থা। এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে পালনের জন্য আসে নি। বরং সামাজিক ভাবে, রাষ্ট্রীয় ভাবে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে। ...

স্বীকারোক্তি

ছবি
কলম তুলে নিলাম হাতে আর প্রতিজ্ঞা করলাম, এই কলমের খোঁচায় খোঁচায় মারবো শয়তান, কলমের আঁচড়ে আঁচড়ে ছিন্ন ভিন্ন করবো শয়তানের রাজত্ব, আবার এই কলমের টানেই রচনা করবো আমাদের ভবিষ্যতের মানচিত্র।  ১৭ জুলাই, ২০১৭। ঢাকা, বাংলাদেশ।